রাজনীতির অঙ্গনে মিজানুর রহমান দয়াল একটি পরিচিত ও সংগ্রামী নাম। বরিশালের মুলাদী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা সফিপুর ইউনিয়নের একটি সাধারণ শিক্ষক পরিবারে তাঁর জন্ম। গ্রামের পাঠশালায় হাতেখড়ি, এরপর ইদিলপুর মাদ্রাসা থেকে মাধ্যমিক শেষে তিনি ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। এখান থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক শেষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি যুক্ত হন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে। ২০০৭ সালের ১/১১-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তিনি সক্রিয় হয়ে ওঠেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের একজন সংগঠক হিসেবে। ছাত্রজীবনের পর থেকেই তিনি ছিলেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিবাদে সোচ্চার।
২০১৫ সালের বিএনপির ডাকা অবরোধ চলাকালে এলিফ্যান্ট রোড থেকে মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে চার মাস জেলহাজতে ছিলেন। ছাত্রলীগের হামলা, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও গুমের শিকার হয়ে বারবার নিপীড়িত হয়েছেন তিনি। উত্তাল জুলাই বিপ্লবের সময় গভীর রাতে ডিবি পুলিশের হাতে তুলে নেওয়ার পর নির্যাতনের ফলে তিনি আজও শারীরিকভাবে অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন।
রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ঢাকা কলেজ ছাত্রদল থেকে। পরবর্তী সময়ে তিনি ছিলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-স্কুলবিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে।
দয়াল বিশ্বাস করেন, রাজনীতি মানেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের অধিকার রক্ষা করা। তিনি বলেন, “আমি আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি এবং করব।”
তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য হলো- জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, এলাকার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষিত ও সেবাধর্মী নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং মাদক, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূরীকরণে ভূমিকা রাখা।
যুবক নয় শুধু বয়সে- দয়াল আজ নেতৃত্বেও পরীক্ষিত। রাজপথের লড়াই, নির্যাতন ও আত্মত্যাগ তাঁকে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক নেতায়। বাবুগঞ্জ-মুলাদীর মতো জনগণনির্ভর একটি আসনে আগামী দিনে তিনিই হতে পারেন নতুন আশার প্রতীক।
“জীবনের আহ্বানে, জাতীয়তাবাদের উত্থানে-
মিজানুর রহমান দয়াল।”
